
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, তাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তার মতে, এই শব্দটি নেতিবাচক এবং ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টক-শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মাহফুজ আলম বলেন, “মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সবসময় একটি বাজে শব্দ। আপনি কি কখনো বলেন ‘হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড’? এটি সাধারণত অপরাধ বা নেতিবাচক ঘটনার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।”
তিনি দাবি করেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেখানে কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। বরং ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা পেছনের পরিকল্পনাকারী—এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল।
মাহফুজ আলম আরও বলেন, “ড. ইউনূস বা সরকারের তথ্য উপদেষ্টা শফিকুল আলম—কেউই আমাকে মাস্টারমাইন্ড বলেননি। এটা সম্পূর্ণভাবে ভিন্নভাবে ফ্রেমিং করা হয়েছে।”
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও বিতর্কমূলক আলোচনায় ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ শব্দটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
টক-শোতে তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিভিন্ন পক্ষ ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়েছে। তার ভাষায়, “যেটা একসময় আইয়ুব খান বা ইয়াহিয়া খান বলেছিল, আজকে অনেকেই একই ধরনের ব্যাখ্যা দিচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সফরসঙ্গীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মাহফুজ আলমের ভূমিকাও উল্লেখ করা হয় বলে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা ওঠে।
এই প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে মাহফুজ আলম স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এই শব্দটি তিনি বা সংশ্লিষ্ট কেউ ব্যবহার করেননি।
তার মতে, বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ পরিবর্তন করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করা হচ্ছে, যা অনুচিত।