
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই চুক্তিকে ঘিরে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং এর সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধের ফলে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরানের শাসনব্যবস্থা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও তা ভেঙে পড়েনি; বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও টিকে থাকার অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে আরও সুসংগঠিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু কৌশলগত ছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দর অবরোধ শিথিল করা হবে, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা কমানো হবে এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বিনিময়ে ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার পথ খুলে দেওয়া হবে।
তবে এই চুক্তিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনাও চলছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনসহ একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই সমঝোতা বাস্তবে বড় কোনো অর্জন নয়, বরং যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার মতো একটি পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, এই সমঝোতা যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমালেও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।