
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মাজার ভাঙা ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় ছিল এবং ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলেন না।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানুষ হত্যা, গ্রাম পোড়ানোসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনা শেখ হাসিনার আমল থেকে শুরু হয়েছে। তিনি রামু, নাসিরনগর, কলমাকান্দা, ঠাকুরগাঁও, কুমিল্লা ও রংপুরের বিভিন্ন ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র অনেক সময় এসব ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র এখানে ভয়ের কারণে কথা বলে না, পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকে।” তার মতে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একের পর এক গ্রাম পোড়ানোর ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায় না।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যখন দীর্ঘ সময় ধরে মাজার ভাঙা হয়, তখন সরকার কী করে? এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতাকেও তিনি সমালোচনা করেন। তার দাবি, তিনি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রকাশ্যে মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন না।
বিএনপির সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, দলটি মুখে উদারপন্থী হলেও বাস্তবে অনেক সময় সাহসী অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়। তিনি মনে করেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব।
তিনি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, অনেক সময় বিরোধী দল প্রকৃত বিরোধিতা না করে “পোষা বিরোধী দল” হিসেবে কাজ করে।
তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ধর্মীয় সহিংসতা, মাজার ভাঙা এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।