
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যে উচ্চাভিলাষী সামরিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি তাকে সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করা। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকে এসব লক্ষ্য পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি।
বিশ্লেষক বারবারা লিফের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুতে ইরানের প্রতিক্রিয়া ও সক্ষমতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুতই অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এখন কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালিকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই চুক্তি নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটরদের অনেকে এটিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য সমাধান বলেও মনে করছেন।
ট্রাম্প নিজেও কিছু বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন, যা তার পূর্বের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কমালেও ভবিষ্যতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্থায়ী সমাধানের দিকে কতটা নিতে পারবে, তা এখনও অনিশ্চিত।