
অ্যান্টার্কটিকার প্রত্যন্ত হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে মারাত্মক H5N1 বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই অঞ্চলে হাজার হাজার সাউদার্ন এলিফ্যান্ট সিল শাবকের মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য গভীর সংকট তৈরি করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, হার্ড দ্বীপে মোট ১৭ হাজার ৩৬৪টি সিলশাবকের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৩৫৯টি মারা গেছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ। কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, যেখানে মৃত্যুর হার ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ড্রোন জরিপ এবং সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অধীনস্থ এই দ্বীপপুঞ্জটি মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি সামুদ্রিক পাখি ও সিলসহ ১০ লাখেরও বেশি বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বার্ড ফ্লুর এই প্রাদুর্ভাব পুরো বাস্তুতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
প্রধান গবেষক ও বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ড. জুলি ম্যাকইনেস জানান, এটি অস্ট্রেলিয়ার কোনো বহিঃস্থ অঞ্চলে H5N1 শনাক্তের প্রথম ঘটনা। তার মতে, ভাইরাসটি উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে ক্রমাগত পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার দূরের একটি ফরাসি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে গত বছরের আগস্টে ভাইরাসটি এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। জরিপ চলাকালীন সময়েও প্রতিনিয়ত সিলশাবক মারা যাচ্ছিল, ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষণায় দ্বীপের ৯টি প্রজাতির প্রাণীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬টি প্রজাতিতে H5N1 ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত প্রাণীদের মধ্যে সাউদার্ন এলিফ্যান্ট সিল ছাড়াও কিং পেঙ্গুইন, জেন্টু পেঙ্গুইন, অ্যান্টার্কটিক ফার সিল এবং সাউথ জর্জ ডাইভিং পেট্রেল রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিলশাবকগুলো।
পেঙ্গুইনদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব দেখা গেলেও পূর্ণবয়স্ক কিং পেঙ্গুইনের মৃত্যু স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে অ্যালবাট্রস পাখির মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিক মৃত্যু লক্ষ্য করা যায়নি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট। তিনি বলেন, ভাইরাসের এই বিস্তার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এটি যাতে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে না ছড়ায়, সে বিষয়ে কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ‘অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রাম’ পুরো অঞ্চলটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রাদুর্ভাব শুধু একটি দ্বীপপুঞ্জের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্যও বড় সতর্ক সংকেত।