
কেপ ভার্দের জাতীয় দলের গোলরক্ষক ভোজিনহার জীবনে যুক্ত হলো এক আবেগঘন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ম্যাচে ছেলের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারছিলেন না তার মা, মূলত উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বাধা দূর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি মানবিক সিদ্ধান্তে।
৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্র ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর নিজের মায়ের উপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রকাশিত হলে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোজিনহার মায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী ভিসা ফি মওকুফ করে দেয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে তাদের মায়ামিতে পুনর্মিলনের প্রস্তুতি চলছে।
হাকিম জেফ্রিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। তিনি এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকার এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।
এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বকাপের মাঠের বাইরেও ফুটবলের মানবিক দিকটি নতুনভাবে সামনে এসেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর কেপ ভার্দে এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোজিনহা নিজে জানিয়েছেন, মায়ের উপস্থিতি তাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।
ফুটবলের এই আবেগঘন গল্প আবারও প্রমাণ করল, বিশ্বকাপ শুধু খেলার নয়—মানবিক সম্পর্কেরও এক বড় মঞ্চ।