
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বুধবার (১৭ জুন) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে “calm, cool and a total killer” বলে উল্লেখ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর অনেকেই ‘কিলার’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, মার্কিন কথ্য ইংরেজিতে ‘কিলার’ শব্দটি সব সময় নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যিনি অত্যন্ত দক্ষ, দৃঢ়চেতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সফলভাবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদির সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প তাকে একজন শক্তিশালী দরকষাকষিকারী নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মোদি দেখতে অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র হলেও বাস্তবে তিনি খুবই কঠোর এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়। এ সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, মোদি দেখতে একজন দেবদূতের মতো হলেও তিনি বাস্তবে অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকও বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ব্যবহৃত ‘কিলার’ শব্দটি কোনোভাবেই ‘খুনি’ অর্থে নয়। বরং এটি এমন একজন নেতাকে নির্দেশ করে, যিনি আলোচনায় নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে পারেন এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম হন।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আরও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে আসছেন। অতীতেও তিনি মোদিকে “strong”, “wise” এবং “great friend” বলে অভিহিত করেছেন। ফলে সাম্প্রতিক এই মন্তব্যও মূলত মোদির রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও কূটনৈতিক দক্ষতার প্রশংসা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জি-৭ সম্মেলনের বিভিন্ন বৈঠকের পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নেতাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ও মোদির বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকের সময় দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিলেও অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি ছিল মোদির ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দক্ষতার প্রতি একটি প্রশংসাসূচক অভিব্যক্তি। ফলে ‘কিলার’ শব্দটি নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাষার ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নেতাদের পারস্পরিক মূল্যায়নের ধরন।