
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সারাদেশে ৮৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। যাচাই-বাছাই চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর আপিল, নিষ্পত্তি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি নাম হলো—বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির আটজন বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল হয়েছে।
মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে হলফনামায় তথ্য গরমিল, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, মামলা সংক্রান্ত নথি অসম্পূর্ণ, ঋণখেলাপি হওয়া, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা বিষয় উল্লেখ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন বাতিল করা হয় হলফনামার স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নোটারি পাবলিকের স্বাক্ষরের তারিখ ও প্রার্থীর স্বাক্ষরের তারিখে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা বিধিমালা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যশোর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী টি এস আইয়ুবের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেয়।
কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের বিরুদ্ধে একটি মামলার যথাযথ নথি উপস্থাপন করতে না পারায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া, যশোর, কক্সবাজার, গাইবান্ধা, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, খুলনা, কুড়িগ্রাম, পাবনা, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন বাতিল হয়েছে কুমিল্লা জেলায়—১৬ জন। এছাড়া টাঙ্গাইলে ৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, গাইবান্ধায় ৮ জন এবং অন্যান্য জেলায় একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বড় সংখ্যক প্রার্থীর বাদ পড়ায় নির্বাচনী মাঠে সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।