
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার খসড়া সমঝোতা স্মারকের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও চুক্তিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধারা সামনে এসেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খসড়া চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলজুড়ে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করা। চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের সামরিক অভিযান ও সংঘাত বন্ধ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হামলার হুমকি থেকেও বিরত থাকার অঙ্গীকার থাকবে।
খসড়ায় দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন। এর আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনাও উল্লেখ রয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও খসড়াটি গুরুত্বপূর্ণ। এতে ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
তবে খসড়া চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইরানের কিছু গণমাধ্যম ফাঁস হওয়া নথির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ফলে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে।