
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর একটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলার খসড়া অভিযোগপত্র ও ডকেট প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। খসড়া অভিযোগপত্রে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, বাংলাদেশের ১০, নর্থ কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, ভারতের ৪ এবং জাপানের ১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠার খসড়া অভিযোগপত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সংগৃহীত তথ্য, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার প্রমাণ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিআইডির ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনি মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট (SWIFT) পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করা হয়। পরবর্তীতে এ অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের বিভিন্ন ব্যাংকিং ও আর্থিক চ্যানেলের মাধ্যমে পাচার করা হয়।
ফরেনসিক তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় নর্থ কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিন হিয়ক ও তার নেতৃত্বাধীন ‘লাজারাস গ্রুপকে’ মূল অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া গেছে।
প্রায় এক দশক ধরে চলা তদন্তে একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেও অবশেষে মামলাটি চার্জশিট পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত এই কেলেঙ্কারির বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।