
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৪৪ জন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের কারণে এ সংখ্যা কমতে পারে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন কোটিপতি। বাকিদের আয় ও সম্পদ তুলনামূলকভাবে সীমিত।
এনসিপির কোটিপতি প্রার্থীরা হলেন—ঢাকা-২০ আসনের প্রকৌশলী নাবিলা তাহসিন, সিলেট-৪ আসনের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাশেল উল আলম, নাটোর-৩ আসনের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদের এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের মাহবুব আলম। মাহবুব আলম দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সদ্য সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই।
হলফনামা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক নাবিলা তাহসিন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অন্যদিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রার্থী প্রীতশ দাশের মাসিক আয় মাত্র ছয় হাজার টাকা। নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী গোলাম সারোয়ার তুষারের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নেই।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গঠিত এনসিপি এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এরই মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে দলটি ৩০টি আসনে ছাড় পেয়েছে। ফলে ১৪ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলটির শীর্ষ ১০ নেতার মধ্যে ছয়জন এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ৩২ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হলেও আয় বিবরণীতে তিনি শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নগদ অর্থ সবচেয়ে বেশি—৩৫ লাখ টাকা।
সম্পদ বিবরণে দেখা যায়, নাবিলা তাহসিনের স্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য তিন কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ এক কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্বামীরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। সিলেট-৪ আসনের রাশেল উল আলমের স্থাবর সম্পদের মূল্য দুই কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি। বিদেশে ও দেশে মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
এস এম জার্জিস কাদেরের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং নগদ অর্থ এক কোটি ১২ লাখ টাকা। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের মাহবুব আলমের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য এক কোটি ১০ লাখ টাকা।
আয় বিবরণীতে এগিয়ে নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার। শিক্ষা ও গবেষণা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫০ লাখ টাকা। স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রেও তিনিই এগিয়ে—২৫ ভরি স্বর্ণের মালিক তিনি।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সম্পদ ৩৩ লাখ টাকার কিছু বেশি। সদস্য সচিব আখতার হোসেনের গাড়ি বা বাড়ি নেই, আয় সীমিত। যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামের বার্ষিক আয় নেই, তবে অলংকার রয়েছে ২৫ লাখ টাকার।
অন্যদিকে অনেক প্রার্থীর আয় ও সম্পদ অত্যন্ত কম। কৃষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী ও গবেষকদের মধ্যে অনেকে কয়েক লাখ টাকার মধ্যেই আয় দেখিয়েছেন। এতে দলটির প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থার বড় বৈষম্য স্পষ্ট হয়েছে।
হলফনামার এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া এনসিপির অধিকাংশ প্রার্থী মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের শ্রেণিভুক্ত। কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা সীমিত হলেও দলটির ভেতরে আয়–সম্পদের পার্থক্য একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে।