
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত প্রাণ কোম্পানির কারখানায় সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে একটি ফ্লোরের অন্তত ৩০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন শ্রমিককে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি শ্রমিকদের অবস্থা স্থিতিশীল।
অসুস্থ শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দিনগত রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার বড়ইচারা এলাকায় অবস্থিত প্রাণ কোম্পানির বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডে নিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি ফ্লোরের প্রায় ৩০ জন শ্রমিক বমি, পেটব্যথা ও দুর্বলতায় আক্রান্ত হন।
ঘটনার পরপরই কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আবাসিক মেডিকেল অফিসার অসুস্থ শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে যাদের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর ছিল, তাদের কোম্পানির নিজস্ব পরিবহনে করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার উম্মে কুলছুম জানান, পেটব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানার উপসর্গ নিয়ে একে একে ১৪ জন শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণ শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার অথবা সরবরাহকৃত পানির মাধ্যমেই এ ধরনের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তবে নিশ্চিত কারণ জানতে আরও পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন।
এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে খাবার ও পানির মান যাচাই করা হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।