
সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। সোমালিল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তেল আবিবে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনের ফাঁকে তিনি জানান, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের কোনো সামরিক উপস্থিতি নেই এবং সেখানে কোনো ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, এ ধরনের খবর বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের সেনাবাহিনী ও পুলিশের কিছু সদস্যকে প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করছে। কিন্তু এটি কোনোভাবেই সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, এডেন উপসাগরের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েল একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসব দাবিকে সরাসরি ‘গুজব’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সোমালিল্যান্ড অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এডেন উপসাগরের ওপারে ইয়েমেন অবস্থিত এবং সেখানকার হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের সংঘাত এবং হুথি বিদ্রোহীদের কার্যক্রম এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমালিল্যান্ডকে ঘিরে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা ঘাঁটি স্থাপনের গুজব মাঝে মাঝে আলোচনায় আসে। তবে সরকার এসব তথ্যকে বারবার অস্বীকার করে আসছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর বক্তব্য অনুযায়ী, সোমালিল্যান্ড তার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, কৌশলগত অবস্থানের কারণে সোমালিল্যান্ডকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক আগ্রহ থাকলেও বাস্তবে এমন কোনো ঘাঁটি স্থাপনের বিষয় নিশ্চিত হয়নি।
বর্তমানে লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন দেশ নৌ নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করছে। এর ফলে এই অঞ্চলের ছোট ছোট ভূখণ্ডগুলোও বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সোমালিল্যান্ড সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইসরায়েলি ঘাঁটি স্থাপনের খবর সম্পূর্ণ গুজব এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কৌশলগত ভূরাজনীতির কারণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আলোচনা বা গুজব সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।