
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ৩৪.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৬১ শতাংশ বেশি, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৮.৯৯ বিলিয়ন ডলার। তুলনামূলকভাবে চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুন একদিনেই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৮২.৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এটি প্রবাসী শ্রমিকদের ধারাবাহিক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১,৬২৩.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রেমিট্যান্স প্রবাহ সাধারণত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় অর্থপাচার কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসীদের এই ধারাবাহিক আয় দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে যদি এই প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকে, তবে তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।