
দেশে হাম (Measles) সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৩৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৬ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করে জানায়, দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৭২ হাজার ৪০৫ জন। এদের মধ্যে ৬৮ হাজার ৭৮২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
একই সময়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৪ জনে। অন্যদিকে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৯৩ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে টিকা গ্রহণ না করা যেকোনো বয়সের ব্যক্তির মধ্যেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, চোখে লালভাব, সর্দি এবং শরীরে লালচে র্যাশ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের জটিল সংক্রমণও হতে পারে।
এদিকে চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান বৃদ্ধি, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা না গেলে সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য খাতে সতর্কতা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।