
গঙ্গা-পদ্মা পানিবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারতের পানি মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর সৌরভ কুমার ও সহযোগী অধিকর্তা সোনি অরোরার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল ঢাকায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা শিব্বির হুসেইন জানিয়েছেন, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সফরকালে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ যৌথভাবে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত গঙ্গা ও পদ্মা নদীর বিভিন্ন নির্ধারিত পয়েন্টে পানিপ্রবাহ পরিমাপ করবে। এ সময় প্রতি ১০ দিন অন্তর পানিপ্রবাহের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়কে সুখা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময় ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি দুই দেশের মধ্যে বণ্টন করা হয়। বর্তমানে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ সেতু এবং ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজে পানিপ্রবাহের পরিমাপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয় এবং ভারতকে ন্যূনতম ৩৫ হাজার কিউসেক পানি সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই দেশ আলোচনায় বসেছে। সূত্র জানিয়েছে, ভারত নতুন কাঠামো বা সংশোধিত চুক্তির একটি প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।