
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ–সীতাকুণ্ড নৌরুটের গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে নারী যাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর এক শুল্কপ্রহরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান আলী (৫৮)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশে বলা হয়, দায়িত্ব পালনের সময় নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ১ জুন গুপ্তছড়া ফেরিঘাট এলাকায়। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে প্রায় দুই সপ্তাহ পর, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী যাত্রীকে ভিড়ের মধ্যে অশোভনভাবে স্পর্শ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপর একাধিক ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত শুল্কপ্রহরী দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত দায়িত্বস্থানে না থেকে ভিড়ের মধ্যে ঘুরে নারী যাত্রীদের হয়রানি করতেন।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শাহজাহান আলী মাসের কিছু সময় সন্দ্বীপ উপকূলে এবং কিছু সময় বাঁশবাড়িয়া ঘাটে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ভিডিওসহ প্রাথমিক তথ্য যাচাই করে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার এ ধরনের আচরণ কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের শামিল। তাই পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগ পর্যন্ত তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক নয়নশীল বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ এবং ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে অসদাচরণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকায় নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপে গড়ায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এই ঘটনার পর ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে।