
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুই দিন পর একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার দিবাগত রাতে নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাউজান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজের ভিত্তিতে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুরে উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চৌমুহনি এলাকার একটি ফার্মেসির সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রকাশ্যে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। হামলার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল না এবং তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার প্রত্যাশা করছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছে। স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্ব কিংবা অন্যান্য বিরোধ এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।