
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি টিইউ-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি উড্ডয়নের সময় প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে এবং পরে একটি বনাঞ্চলে আছড়ে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার আগে বিমানটির চারজন ক্রুই সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি ইরকুতস্ক অঞ্চলের কামেনকা গ্রামের নিকটবর্তী এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনার কারণে আশপাশের জনবসতিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে একটি বড় আকারের বিমানকে দ্রুত নিচের দিকে নামতে দেখা যায়। পরে ঘন বনাঞ্চলের ভেতরে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানটির ক্রুরা দুর্ঘটনার আগেই জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। উদ্ধারকাজ শেষে চারজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাদের কারও গুরুতর আঘাতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুর্ঘটনার পরও তাদের জীবনঝুঁকি নেই বলে জানানো হয়েছে।
ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত কারিগরি তদন্ত পরিচালনা করা হবে।
টিইউ-২২এম৩ রাশিয়ার দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। এটি সোভিয়েত যুগে তৈরি টিইউ-২২ সিরিজের উন্নত সংস্করণ এবং শব্দের গতির চেয়েও বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। বিমানটি দূরপাল্লার আঘাত হানার জন্য নকশা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মডেলের বিমান রাশিয়ার আকাশভিত্তিক আক্রমণ সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে দূরপাল্লার কেএইচ-২২ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতার কারণে এটি আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনেও পরিচিত। অতীতে সিরিয়া ও ইউক্রেন সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানে এই ধরনের বিমান ব্যবহারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিমানটির কারিগরি অবস্থা, ফ্লাইট রেকর্ড এবং ইঞ্জিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।