
কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি অবগত হওয়া এবং সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মাসিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত এ গণশুনানিতে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দূতাবাস সূত্র জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা আরও সহজ, কার্যকর এবং জনবান্ধব করতে নিয়মিত এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি তাদের সমস্যার কথা দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পান। একই সঙ্গে দূতাবাসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জুন ২০২৬ মাসের গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী প্রবাসীরা শ্রমসংক্রান্ত বিষয়, পাসপোর্ট নবায়ন, কনস্যুলার সেবা, আইনি সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করা দূতাবাসের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রবাসীদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে দূতাবাস সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
গণশুনানিতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, শ্রম কল্যাণ, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবার মান আরও উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে প্রবাসীরা দ্রুত ও কার্যকর সেবা পেতে পারেন।
প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের এই আয়োজনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের মতে, এ ধরনের গণশুনানি প্রবাসীদের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করে তোলে।
দূতাবাস জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হবে, যাতে কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানের মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত করা যায়।