
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার তিনি বলেন, এখন প্রণালি দিয়ে একাধিক তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করছে এবং চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
ফ্রান্সে জি–৭ সম্মেলনে যাওয়ার পথে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে একটি নিরাপদ রুট অনুসরণ করছে এবং এই চলাচলকে তিনি “সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত” বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছিল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
রবিবার একটি মধ্যস্থতাকারী পক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। যদিও এখনো এই সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ লিখিত নথি প্রকাশ করা হয়নি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে, যার পর দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা শুরু হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে পার হতে সহায়তা করেছে, যাতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন সম্ভব হয়েছে।
তবে প্রণালিতে টোল বা ফি আরোপের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত আলোচনায় এসব বিষয় চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা সামুদ্রিক সেবার জন্য ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি আনতে পারে, তবে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।