
দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাজ সংগীতের অন্যতম রূপকার ও বিশ্ববিখ্যাত পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার পরিবার জানিয়েছে, তিনি জার্মানিতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ প্রায় আট দশকের সংগীতজীবনে তিনি জ্যাজ বিশ্বে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করে গেছেন।
১৯৩৪ সালে কেপটাউনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মনাম ছিল অ্যাডলফ জোহানেস ব্র্যান্ড। মাত্র সাত বছর বয়সেই পিয়ানো বাজানো শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি কিশোর বয়সে বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাজ সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে ওঠেন।
তিনি ‘দ্য জ্যাজ এপিসলস’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন, যেখানে বিখ্যাত ট্রাম্পেট বাদক হিউ মাসাকেলাও যুক্ত ছিলেন। শুরুতে তিনি ‘ডলার ব্র্যান্ড’ নামে পরিচিত থাকলেও ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ ইব্রাহিম রাখেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যবাদের কঠিন সময়েও তার সংগীত ছিল প্রতিবাদের ভাষা। রাজনৈতিক চাপের কারণে তার ব্যান্ড ভেঙে যায় এবং তিনি ইউরোপে চলে যান। পরে সুইজারল্যান্ডে অবস্থানকালে আমেরিকান জ্যাজ কিংবদন্তি ডিউক এলিংটনের নজরে পড়েন তিনি, যিনি তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
তার সবচেয়ে বিখ্যাত সংগীতকর্মগুলোর একটি ‘ম্যানেনবার্গ’, যা ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়। জ্যাজ ও আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী সুরের মিশ্রণে তিনি একটি স্বতন্ত্র সংগীতধারা তৈরি করেন, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে দীর্ঘ সময় বসবাস করলেও তিনি কখনো নিজের দেশকে ভুলে যাননি। সুযোগ পেলেই দেশে ফিরে পরিবেশনায় অংশ নিতেন। মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে কেপটাউন আন্তর্জাতিক জ্যাজ উৎসবে তিনি শেষবারের মতো মঞ্চে পারফর্ম করেন।
তার মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাকে দেশের সাংস্কৃতিক গৌরব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংগীতবিশ্বে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।