
নরওয়ের রাজপরিবারকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের ছেলে মারিউস বর্গ হইবিকে দুটি ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অসলো জেলা আদালত। সোমবার তিন বিচারকের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে, যদিও রায়ের সময় ২৯ বছর বয়সী হইবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, চারটি ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়েছে, অন্য দুটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তার জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিল, তবে আদালত চার বছরের সাজা নির্ধারণ করে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাউগুম এস্টেটে এবং ২০২৪ সালে অসলোর একটি ঘটনায়। এছাড়া তার সাবেক প্রেমিকা ও পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নোরা হাউকল্যান্ডের ওপর নির্যাতন এবং আরও একজন নারীর ওপর গুরুতর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। আদালত মোট ছয়জন নারী ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তে তার মোবাইল ফোন থেকে ধারণ করা ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আদালত জানায়, একাধিক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ঘুমিয়ে ছিলেন বা প্রতিরোধ করতে সক্ষম ছিলেন না, যা মামলার রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হইবির আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা তার স্বাস্থ্যগত ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কারাগার থেকে মুক্তির আবেদন করেছিলেন, তবে আদালত তা নাকচ করে দেয়। আদালতের মতে, পূর্বে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার নজির থাকায় পুনরায় একই ধরনের আচরণের ঝুঁকি রয়েছে।
এই রায় নরওয়ের রাজপরিবারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। যদিও হইবি সরাসরি রাজপরিবারের সদস্য নন, তবুও তার বেড়ে ওঠা ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজপ্রাসাদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা নরওয়ের বিচারব্যবস্থা ও রাজপরিবার উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট তৈরি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।