
সময়টা যেন পুরোপুরি মোস্তাফিজুর রহমানের। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট—সব জায়গাতেই ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিচ্ছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। কিছুদিন আগেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দল পেয়েছেন তিনি। এরপর ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে (আইএল টি-টোয়েন্টি) দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন। সেই ফর্মের ধারাবাহিকতায় এবার স্পর্শ করলেন ক্যারিয়ারের বড় এক মাইলফলক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের কারণে আইএল টি-টোয়েন্টির মাঝপথে দেশে ফিরেছেন মোস্তাফিজ। এবারের বিপিএলে তাঁর ঠিকানা রংপুর রাইডার্স। একবারের শিরোপাধারী দলটির হয়ে শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করছেন কাটার মাস্টার।
আজ সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে নেমেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের ঐতিহাসিক ক্লাবে প্রবেশ করেন মোস্তাফিজ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিক দল। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদি হাসান মিরাজকে আলিস আল ইসলামের হাতে ক্যাচ বানিয়ে নিজের ৪০০তম উইকেটটি শিকার করেন মোস্তাফিজ।
এই কীর্তির মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এর আগে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন সাকিব আল হাসান।
টি-টোয়েন্টিতে উইকেট শিকারের তালিকায় বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এখনো শীর্ষে আছেন সাকিব আল হাসান। তারকা অলরাউন্ডারের ঝুলিতে রয়েছে ৫০৭ উইকেট। সাকিব এই কীর্তি গড়েছিলেন ৩৫৩ ম্যাচে। অন্যদিকে মোস্তাফিজ ৩১৫ ম্যাচেই ৪০০ উইকেট পূর্ণ করে নিজের কার্যকারিতা ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন।
বাংলাদেশি বোলারদের এই তালিকায় তিন নম্বরে আছেন রুবেল হোসেন। জাতীয় দলের সাবেক এই পেসারের সংগ্রহ ১৮৫ উইকেট। চতুর্থ স্থানে থাকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের উইকেট সংখ্যা ১৭৮। আর পাঁচ নম্বরে রয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান, যিনি টি-টোয়েন্টিতে ১৭৬ উইকেট নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোস্তাফিজের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্যও বড় একটি সাফল্য। ভিন্নতা, কাটার আর অভিজ্ঞতার মিশেলে তিনি এখনো বিশ্বের বিভিন্ন লিগে সমানভাবে কার্যকর।
চলমান বিপিএলে তাঁর পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকলে সামনে আরও নতুন মাইলফলক অপেক্ষা করছে মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য—এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।