
বিশ্বকাপ মানেই নতুন নায়ক তৈরির মঞ্চ। এমন অনেক ফুটবলার আছেন, যাদের নাম টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খুব কম মানুষই জানতেন, অথচ একটি ম্যাচের পারফরম্যান্সই তাদের পৌঁছে দেয় কোটি মানুষের হৃদয়ে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ সেই তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি এখন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
যার আসল নাম Josimar Jose Evora Dias। ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক পারফরম্যান্সের পর মুহূর্তেই তিনি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সামনে প্রতিপক্ষ ছিল অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী Spain national football team। কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির পার্থক্য ছিল বিশাল। স্পেন ম্যাচজুড়ে আক্রমণ চালিয়েছে, বলের দখল ধরে রেখেছে এবং একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু গোলের সামনে ছিল এক অদম্য প্রাচীর—ভোজিনিয়া।
ম্যাচে স্পেন মোট ২৭টি শট নেয়। এর মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিটি শটই ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। কখনো ঝাঁপিয়ে পড়ে, কখনো আকাশে উড়ে গিয়ে, আবার কখনো নিখুঁত পজিশনিংয়ে তিনি গোল বাঁচিয়েছেন। তাঁর সামনে ব্যর্থ হয়েছেন স্পেনের একাধিক তারকা ফুটবলার।
স্প্যানিশ কোচ ম্যাচের গতি বদলাতে বেঞ্চ থেকে একের পর এক খেলোয়াড় নামালেও ফল বদলায়নি। আক্রমণের পর আক্রমণ সামলে শেষ পর্যন্ত নিজের জাল অক্ষত রাখেন ভোজিনিয়া। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে তখনও জ্বলছিল ০-০।
এই ক্লিনশিট শুধু একটি ম্যাচ বাঁচানোর গল্প নয়। এটি একজন ফুটবলারের দীর্ঘ অপেক্ষা, সংগ্রাম ও স্বপ্নপূরণের গল্পও। ৪০ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়া ভোজিনিয়া হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার যে স্বপ্ন তিনি এতদিন ধরে বয়ে বেড়িয়েছেন, তা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি ইতিহাসও গড়েছেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেকে ক্লিনশিট ধরে রাখার কৃতিত্ব তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে। তাও আবার এমন একটি দলের বিপক্ষে, যারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী নাম এবং শিরোপার দাবিদারদের তালিকায় রয়েছে।
বর্তমানে তিনি খেলেন GD Chaves-এর হয়ে। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের এই ক্লাবের গোলরক্ষক হয়তো খুব বেশি আলোচনায় ছিলেন না। কিন্তু বিশ্বকাপের একটি রাত তাঁর পুরো পরিচয় বদলে দিয়েছে। এখন তাঁকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা, প্রশংসা এবং বিস্ময়ের শেষ নেই।
ম্যাচ শেষে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের আলিঙ্গনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভোজিনিয়া। ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময়ও তাঁর চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। সেই অশ্রু ছিল বহু বছরের পরিশ্রম, অপেক্ষা ও স্বপ্নপূরণের প্রতিচ্ছবি।
ফুটবল ইতিহাসে অনেক বড় বড় জয় স্মরণীয় হয়ে থাকে। আবার কখনো কখনো একটি ড্র-ও কিংবদন্তির জন্ম দেয়। স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের গোলশূন্য ড্র তেমনই একটি ঘটনা। আর সেই রূপকথার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিঃসন্দেহে ভোজিনিয়া—যিনি এক রাতেই অচেনা একজন ফুটবলার থেকে বিশ্বকাপের নায়ক হয়ে উঠেছেন।