
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার একটি নতুন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্থাটি তাদের নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। যদিও পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবু বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই ফুটবল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিক অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ নয়। তবে ফিফার সদস্যভুক্ত ২১১টি দেশের জন্যই এতে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। বয়সভিত্তিক এই আয়োজনকে ভবিষ্যতে একটি বৈশ্বিক ফুটবল উৎসবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার। সংস্থাটি মনে করছে, অল্প বয়সী খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে একত্রিত করার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
ফিফা গত বছরের শেষ দিকে টুর্নামেন্টটির প্রাথমিক কাঠামো প্রকাশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম আসরটি ছেলেদের জন্য অনুষ্ঠিত হবে। এর এক বছর পর মেয়েদের সংস্করণ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসব আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফিফা সভাপতি Gianni Infantino। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলকে কেবল একটি খেলা নয়, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতি, জাতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন। তাঁর মতে, ক্রীড়াঙ্গন এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিফার বিভিন্ন বৈঠকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যু আলোচনায় এসেছে। একটি সভায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রতীকী করমর্দনের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় বিষয়টি আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও ফিফা নেতৃত্ব ফুটবলের মাধ্যমে সংলাপ ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরির ধারণা থেকে সরে আসেনি।
নতুন টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে মায়ামিকে অন্যতম সম্ভাব্য আয়োজক শহর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ভেন্যু, অংশগ্রহণকারী দল এবং সূচি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের বয়সভিত্তিক দলকে একই মাঠে নামানোর উদ্যোগ প্রতীকী গুরুত্ব বহন করতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি বিষয়কে ঘিরে এমন আয়োজন বাড়তি বিতর্কও সৃষ্টি করতে পারে। তবে ফিফা সূত্রগুলো এ উদ্যোগকে মূলত ক্রীড়া ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণকেন্দ্রিক একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছে।
ফিফার বক্তব্য অনুযায়ী, বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ ফুটবলারদের একত্রিত করা এবং তাদের জন্য একটি ইতিবাচক আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করা। সংস্থাটি আশা করছে, ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতা তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত করবে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ম্যাচের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী মাসগুলোতে ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমী ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকদের।