
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি এলাকায় সৌদি আরব হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদনে ইয়েমেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহর বরাতে বলা হয়, ইয়েমেনের সা’দা প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে বেসামরিক স্থাপনা ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, হামলার ফলে কয়েকটি ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়।
এদিকে ইয়েমেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হামলার মাত্রা ও পরিসর আরও বেড়েছে বলে তাদের দাবি। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের অবস্থান প্রকাশের পর সৌদি হামলা তীব্রতর হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে, যা দেশটির ভঙ্গুর মানবিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব তার মিত্রদের নিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের অস্ত্র ও রসদ সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন এই জোটের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনে ক্ষমতাসীন আনসারুল্লাহ (হুতি) আন্দোলনকে দমন করা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদে রাব্বু মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন রিয়াদপন্থি সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
তবে দীর্ঘ প্রায় এক দশকের যুদ্ধেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বরং এই সংঘাতে লক্ষ লক্ষ ইয়েমেনি নিহত ও আহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধের ফলে ইয়েমেন আজ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে খাদ্য সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়া এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নতুন করে হামলা অব্যাহত থাকায় এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।