
পিরোজপুরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পরকীয়ার জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুত্রবধূর অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় শাশুড়ি নমিতা রানীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮।
রোববার (১৪ জুন) গভীর রাতে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার শ্রীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কামাল পঞ্চায়েত (৫৫) ইন্দুরকানি উপজেলার দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুত্রবধূ বন্যা রানী পালসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে নমিতা রানী হত্যা মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-৮ এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত কামাল পঞ্চায়েতের সঙ্গে নিহত নমিতা রানীর পুত্রবধূ বন্যা রানীর দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে কামাল প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শাশুড়ি নমিতা রানী ও শ্বশুর রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেন এবং তা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কামাল ও বন্যা রানী তাদের হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন, গত ২৮ মে, শ্বশুর রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বাড়ির বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে কামাল পঞ্চায়েত ও তার সহযোগীরা সন্ধ্যার মধ্যে নমিতা রানীকে নিজ বাড়ির বারান্দায় শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরে রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বাদী হয়ে ইন্দুরকানি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বন্যা রানীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, ঘটনার পর কামাল পঞ্চায়েত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। তিনি একাধিকবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে র্যাব-৮ সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পরকীয়ার জেরে সংঘটিত এ ধরনের অপরাধ সমাজে উদ্বেগজনক প্রবণতা তৈরি করছে। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, এই হত্যাকাণ্ডটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধের ফল নয়, বরং সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের একটি প্রতিচ্ছবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে মূল আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।