
সাভারের আমিনবাজার এলাকায় দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক জুতা ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং লিঙ্গ কর্তনের মতো পৈশাচিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী উত্তরপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে দেলোয়ার হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন পাইকারি দরে জুতা কিনে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী উত্তরপাড়া এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেলে তাঁর নিজ ঘরের ভেতরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হত্যার ধরন ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ। হত্যাকারীরা শুধু দেলোয়ার হোসেনকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে বড়দেশী উত্তরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড আগে কখনো দেখেননি তারা। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি বলেন, “হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত নৃশংস। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধ, ব্যবসায়িক শত্রুতা কিংবা পূর্ব শত্রুতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।