
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সংঘটিত হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের মামলায় লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (স্বতন্ত্র) হাসিবুর রহমান মানিককে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে চলমান মামলায় তার আইনি অবস্থান আরও জটিল হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি মডেল থানার এসআই মো. বাবন উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিলায়ন বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিককে ধানমণ্ডি থানার ওই মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়।
আইনজীবী দাবি করেন, গত ২২ মাস ধরে লালবাগ, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়ের হওয়া মোট ১৪টি মামলায় মানিক কারাগারে আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মানিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং তার পরিবারে ছোট সন্তান রয়েছে। হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর বেলবন্ড জমা দেওয়ার আগেই নতুন মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমণ্ডির গ্রিন সামিট সংলগ্ন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়, যাতে মো. ইমন হাছান নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ধানমণ্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
সেই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাবেক কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিককে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হলো বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, একাধিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তবে এতে আসামিপক্ষের আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের মতে, মামলার তদন্ত চলমান থাকায় এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো আইনগতভাবে যথাযথ পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক সহিংসতার এই মামলাটি রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুত্ব পাচ্ছে এবং নতুন গ্রেপ্তার দেখানোর ফলে মামলার অগ্রগতি আরও নজরদারির মধ্যে এসেছে।