
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা চার দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রেমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ায় তিনি রোববার বিষের বোতল সঙ্গে নিয়ে অনশন চালিয়ে যান এবং আত্মহত্যার হুমকিও দেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর প্রেমিক হুমায়ুন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নুরনবী বাড়ির মো. নুরনবীর ছেলে। হুমায়ুনের দোকানে নিয়মিত কেনাকাটার সূত্র ধরে তাদের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় বলে দাবি করেন তরুণী।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন সময় একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করেছেন এবং বিয়ের আশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তৈরি হয়। তবে বর্তমানে প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর হুমায়ুন তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন। এ কারণে বিয়ের দাবিতে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। তরুণীর ভাষায়, “আমি হুমায়ুনকেই বিয়ে করব, বিয়ে ছাড়া এখান থেকে ফিরব না।”
ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তাদের মধ্যে একজন জানান, তারা আগে চরফ্যাশনের জ্যাকব টাওয়ার এলাকায় ওই যুগলকে একসঙ্গে দেখেছিলেন এবং তখন তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বিষয়টি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
রোববার অনশন চলাকালে তরুণী একটি বিষের বোতল সঙ্গে আনেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে প্রেমিকের পরিবারের সদস্যরা সেটি ছিনিয়ে নেন। তবে এরপরও তিনি অনশন চালিয়ে যান এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়।
এদিকে অভিযুক্ত হুমায়ুন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি গত ৭-৮ মাস ধরে ঢাকায় চাকরি করছেন। তাদের দাবি, এই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তারা আগে কিছুই জানতেন না।
হুমায়ুনের মা বলেন, যদি তাদের মধ্যে সত্যিই সম্পর্ক থাকে এবং ছেলে রাজি থাকে, তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই। তবে আগে কখনো এমন সম্পর্কের বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তারা অবগত নন এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি সামাজিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রেম, প্রতিশ্রুতি ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নানা মত তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণীর অনশন ও আত্মহত্যার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা না গেলে এটি আরও জটিল আকার নিতে পারে। ফলে এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও দুই পরিবারের সিদ্ধান্তের দিকে।