
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনায় বাংলাদেশের অসংখ্য দর্শক রাত জেগে খেলা উপভোগ করছেন। সময়ের পার্থক্যের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ম্যাচ রাত গভীরেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার ফলে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের সময় হারাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে পরদিনের কাজকর্ম, মনোযোগ এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বা দুই রাত ঘুম কম হলেও সঠিক রুটিন মেনে চললে শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগে থেকেই ঘুম পরিকল্পনা ঠিক করে নেওয়া। কেউ চাইলে পুরো বিশ্বকাপ মৌসুমে ধীরে ধীরে রাতের রুটিনে অভ্যস্ত হতে পারেন, আবার কেউ খেলা শুরুর আগে কিছুটা ঘুমিয়ে নিয়ে পরে আবার ঘুম পূরণ করতে পারেন।
ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই ভাগে ঘুম নেওয়ার পদ্ধতি অনেকের জন্য কার্যকর হতে পারে। এতে ম্যাচ দেখার পর শরীর কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং পরদিন ক্লান্তি তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়। তবে একটানা রাত জাগার পর দিনের কাজের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে, তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলা ভালো।
রাত জাগার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্যাফেইন গ্রহণ। চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে জাগিয়ে রাখলেও অতিরিক্ত গ্রহণ ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমের অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ করা উচিত।
এছাড়া দিনের মাঝামাঝি সময়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম শরীরকে পুনরায় সতেজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে বেশি সময় ঘুমালে উল্টো ঘুমঘুম ভাব ও অলসতা বেড়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাত জেগে বিশ্বকাপ উপভোগ করলেও সঠিক রুটিন, পরিমিত ঘুম এবং খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে পরদিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা সম্ভব।