
সমুদ্রসৈকত, পাহাড় আর পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জেলা কক্সবাজারে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। জেলার নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত চারটি সংসদীয় আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়া মানুষদের মধ্যে এবার নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে কক্সবাজারের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থি ধারার প্রভাব বেশি। সে কারণে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলই এখানে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করে। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন জটিলতা এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহ কিছু আসনে দলটির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া জামায়াত।
এই আসনে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। দলীয় মনোনয়ন ইতোমধ্যে তার নামে দেওয়া হয়েছে। তবে আসন বদলের গুঞ্জন মাঠে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত এখানে প্রার্থী করেছে কক্সবাজার শহর শাখার আমির আবদুল্লাহ আল ফারুককে। বড় বড় শোডাউন ও ধারাবাহিক প্রচারে তিনি দৃশ্যমান অবস্থান তৈরি করেছেন। জামায়াত নেতাদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের পর দলের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে।
এই আসনটি জোট রাজনীতিতে আগে জামায়াতের দখলে ছিল। এবারও দলটির প্রার্থী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। যদিও মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আপিলের পথে হাঁটছেন তিনি। বিএনপি এখানে সাবেক এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদকে মনোনয়ন দিলেও দলীয় কোন্দল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক শক্তিশালী গ্রুপ প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সরব।
এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির হলেও প্রতিবারই মনোনয়ন ঘিরে জটিলতা দেখা যায়। এবার দলটি একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজলকে মনোনয়ন দিয়েছে। জামায়াত এখানে প্রার্থী করেছে ভিপি বাহাদুর নামে পরিচিত শহিদুল আলমকে। সাংগঠনিক ভিত্তি ও দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজকে পুঁজি করে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় আছে জামায়াত।
সীমান্তবর্তী এই আসনে বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বিপরীতে দলীয় বিদ্রোহ বড় শঙ্কা। জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথে। এ বিভক্তি জামায়াতের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। দলটি এখানে প্রার্থী করেছে জনপ্রিয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আমির মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারীকে, যিনি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য।
সব মিলিয়ে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপির একচেটিয়া অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ও জামায়াতের সংগঠিত প্রচার—এই দুইয়ের সমন্বয়েই কক্সবাজারের ভোটের ফলাফল এবার ভিন্ন চিত্র দিতে পারে।