
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী Bobby Hajjaj দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি শিক্ষা খাতকে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারিকুলাম আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি দেশের শিক্ষার মান নিয়ে একটি তুলনামূলক মন্তব্য করেন, যা সংসদে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার কারণে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম যুক্ত করার বিরোধিতাকারীদের সমালোচনাও করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; বরং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে কারিকুলাম সংস্কার, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার মান নিয়ে আন্তর্জাতিক তুলনা বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বীকৃত গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পরিমাপযোগ্য সূচকের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, দক্ষ শিক্ষক এবং আধুনিক পাঠক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।