
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি এবং আঞ্চলিক সূত্র।
রবিবার (১৪ জুন) ইসলামাবাদের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, উভয় পক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনা কমাতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধানের চেষ্টা চলছে, যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে পারে।
চুক্তি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তিটি খুব শিগগিরই স্বাক্ষর হতে পারে এবং এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। তবে এটি সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ছাড়াই ইলেকট্রনিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোচনায় আরও বলা হচ্ছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটি পুনরায় চালু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
আগামী জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে মার্কিন নেতৃত্ব এই সংকট সমাধানে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন এক কূটনৈতিক মোড়ে প্রবেশ করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।