
জাতীয় সংসদে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে একটি বিবৃতি প্রদানকালে জিসানকে ঘিরে চলমান একটি মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
রোববার সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধির আওতায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংসদকে অবহিত করেন। পরে তিনি জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি চলমান মামলার অভিযোগ ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হলে বিরোধী দলীয় সদস্যরা এ বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, বিচারাধীন ও বিতর্কিত একটি বিষয় এভাবে সংসদে উপস্থাপন করা উচিত হয়নি এবং এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির একটি অংশের সমালোচনা করে বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংসদে তোলা হয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ওই অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে সংসদ কক্ষে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং সংসদীয় বিধি অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া বিবৃতির ওপর সাধারণত বিতর্কের সুযোগ থাকে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ডেপুটি স্পিকার বলেন, যদি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে বক্তব্যের কোনো অংশ সংসদীয় রীতি বা বিধির পরিপন্থী হয়েছে, তাহলে তা বিধি অনুযায়ী কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এরপর উভয় পক্ষকে আসনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
সংসদে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।