
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যার ফলে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রিমরক লেকের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইয়াকিমা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলট দ্রুত নিরাপদে ইজেক্ট করে বের হতে সক্ষম হন। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মার্কিন মেরিন কোরের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ/এ-১৮ হরনেট (F/A-18 Hornet) মডেলের যুদ্ধবিমান। এটি মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১, তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইংয়ের অধীনে প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত উড্ডয়ন কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিমানটি ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরের প্রায় ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশন পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ও ওকানোগান-ওয়েনাচি ন্যাশনাল ফরেস্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আগুনে ঠিক কতটুকু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেককে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সামরিক সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা খুবই সংবেদনশীল একটি বিষয়, কারণ এতে শুধু পাইলট নয়, আশপাশের বেসামরিক এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়া পরিস্থিতি কিংবা যান্ত্রিক সমস্যা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন আশপাশের এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি রেখেছে, যাতে আগুন আরও বিস্তার লাভ না করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।