
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জামিন পেয়েছেন। রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতের রায়ের পর তার আইনজীবীরা জানান, এখন তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় আপাতত তার মুক্তিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
এ মামলায় শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মামুন মাহবুব এবং আইনজীবী কাজী আহসান হাবিব। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী খান মো. মইনুল হাসান লিপন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গত বছরের ৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় আইনি লড়াই চলছিল।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের মাধ্যমে তার জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আইনজীবীরা বলছেন, এখন তার মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা নেই, যদি নতুন কোনো মামলা বা আদেশ না থাকে।
এই রায়কে ঘিরে আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় উচ্চপর্যায়ের একাডেমিক ব্যক্তিত্বের জামিন পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই ধরনের জামিন আদেশ সাধারণত মামলার প্রাথমিক প্রমাণ, তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তের অবস্থান বিবেচনা করে দেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত বিচার এখনো চলমান থাকবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আদালতে মামলার পূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ দেশের শিক্ষা প্রশাসন ও একাডেমিক মহলে পরিচিত একটি নাম। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
বর্তমানে জামিন পাওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নজর রয়েছে।