
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিমরাইল থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিন-রাত চলাচল করছে। শুধু চলাচলই নয়, সড়কের পাশে যাত্রী ওঠানামা এবং বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর জনবহুল এলাকা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ সবসময় বেশি থাকে। এর মধ্যেই অদক্ষ চালকদের পরিচালিত অটোরিকশা বড় যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই অটোরিকশার স্টপেজ তৈরি হয়েছে। সেখানে যাত্রী ওঠানামা চলছে প্রকাশ্যেই। বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কের পাশে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা ও নামানোর দৃশ্যও দেখা যায়।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে অন্তত ২০টির বেশি পয়েন্টে নিয়মিত অটোরিকশা চলাচল করছে। অধিকাংশ চালকের প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স বা যানবাহনের নিবন্ধন নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে এসব তিন চাকার যানবাহন। বাসচালক আহসানউল্লাহ মজুমদার বলেন, অটোরিকশাগুলো প্রায়ই ট্রাফিক নিয়ম না মেনে চলাচল করে এবং অনেক চালকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও নেই। ফলে বড় যানবাহনের চালকদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় কয়েক হাজার অটোরিকশা চলাচল করে। তবে সড়ক-মহাসড়কে ঠিক কত সংখ্যক সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছেও নেই।
এদিকে কিছু চালক অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সময় অভিযানের মুখে পড়লেও জরিমানা বা মামলা এড়াতে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানিয়েছেন, মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, চালকদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে মহাসড়কে এসব যান না আনতে বলা হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত অভিযান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প রুট ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।