
প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও মানসম্মত করতে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে, যার মাধ্যমে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নিয়মের আওতায় আনা হবে।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ কারিকুলাম নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে শিক্ষক বদলির ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতি ও অনিয়ম কমানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, শিক্ষক বদলির প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই এই প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব দিলে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ববি হাজ্জাজ আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সিঙ্গেল শিফট ব্যবস্থায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, “কোয়ালিটি এডুকেশনই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এমন মানে পৌঁছাক, যাতে সেখানে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।”
শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিয়েও কঠোর নীতিমালার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক যেন পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ জন্য ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষক নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।
সংস্কার পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন কারিকুলাম। প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষা ব্যবস্থায় চারটি বিষয়—কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা—এই চারটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হবে। এরপর ২০২৮ সালের কারিকুলামে এগুলো সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সমানভাবে নিশ্চিত করা যায়।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষার মানে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করছেন, নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সক্ষমতা, বাজেট এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সব মিলিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।