
ভারতের রাজধানী দিল্লির তুঘলকাবাদ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও পরে পুলিশের তদন্তে এটি পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর ঘটনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তদন্তে জানা যায়, গত ১২ জুন মধ্যরাতের পর ভবনের নিচে পার্ক করা একটি স্কুটারে আগুন দেওয়া হয়। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। অগ্নিকাণ্ডে আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঙ্কজ, সুশীলা দেবী ও সোনিয়া কুমারী নামে তিনজন মারা যান।
পুলিশ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে আটক করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিরঞ্জন, রাজকুমার ও সরিতা রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরী আগুন লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্ঘটনা মনে হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে এক কিশোরীকে আগুন লাগানোর আগে ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এই সূত্র ধরে তদন্ত এগোতে থাকে এবং পরে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মূল ঘটনা পারিবারিক আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। নিরঞ্জনের চাচাতো ভাই দীপকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক দ্বন্দ্ব চলছিল। দীপক ওই ভবনের পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরিতা ওই কিশোরীকে স্কুটারে আগুন লাগাতে উৎসাহিত করেন এবং তাকে পেট্রোল ও ম্যাচ সরবরাহ করেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে পুরো ভবনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ হত্যার ষড়যন্ত্র, অগ্নিসংযোগ, হত্যাচেষ্টা এবং অনধিকার প্রবেশসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা দিল্লিতে নিরাপত্তা ও আবাসিক ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।