
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা SpaceX-এর অভাবনীয় শেয়ার বিক্রির পর প্রযুক্তি উদ্যোক্তা Elon Musk বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। তবে তার বিপুল সম্পদের বিপরীতে ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ধরন আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাস্ক ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি করে বর্তমানে টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্সের স্টারবেস রকেট সেন্টারের কাছে প্রায় ৪০০ বর্গফুটের একটি ছোট ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছেন। এই বাড়িটি ‘বক্সাবল’ কোম্পানির তৈরি একটি প্রিফ্যাব্রিকেটেড ইউনিট, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার ডলার।
বাড়িটির ভেতরে একটি ছোট বসার ঘর, শোবার জায়গা, রান্নাঘর এবং সাধারণ বাথরুম রয়েছে। স্থান সংকুলানের জন্য ভাঁজ করা যায় এমন মারফি বেড এবং ন্যূনতম আসবাবপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। মাস্ক নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, কাজের সুবিধা ও সরল জীবনযাপনই তার মূল লক্ষ্য।
তার মা মে মাস্ক একবার বাড়িটি ঘুরে এসে মন্তব্য করেন, সেখানে খাবারের পরিমাণও সীমিত এবং জীবনযাত্রা অত্যন্ত সাধারণ। এর আগে টেসলা কারখানার উৎপাদন সংকটের সময়ও মাস্ক কারখানার মেঝেতে ঘুমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
যদিও মাস্ক দাবি করেন স্টারবেসের এই ছোট ঘরই তার প্রধান বাসস্থান, তবে অস্টিনের কাছে তার কোম্পানি সংশ্লিষ্ট একাধিক বড় বাড়ি রয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এসব বাড়ির আয়তন ৬ থেকে ৯ হাজার বর্গফুট পর্যন্ত এবং সেখানে সুইমিং পুলসহ আধুনিক সুবিধা রয়েছে।
তবে বিলাসবহুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশিরভাগ সময় কাটান স্টারবেসের কাছাকাছি, যাতে তিনি সরাসরি রকেট প্রকল্পের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। বিশেষ করে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ প্রকল্পের উন্নয়ন তদারকিতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়।
সব মিলিয়ে, বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়েও ইলন মাস্কের এই সাদামাটা জীবনযাপন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি তার গভীর মনোযোগেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।