
বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার লড়াইটি ছিল ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ সারির দুই দলের এই ম্যাচকে অনেকেই এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় লড়াই হিসেবে দেখছিলেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই প্রতীক্ষিত ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মরক্কো। মাঝমাঠে ব্রাহিম দিয়াজের নেতৃত্বে তারা বারবার ব্রাজিলের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। সেই চাপেরই ফল আসে ১৭ মিনিটে। দিয়াজের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে একক প্রচেষ্টায় ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইসমায়েল সাইবারি।
গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় ব্রাজিল। তবে ৩২ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রাফিনিয়ার পাস পেয়ে বক্সের বাম দিক থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। এটি ছিল ব্রাজিলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুসের ৫০তম ম্যাচ, যা তিনি স্মরণীয় করে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ এক গোল দিয়ে।
তবে গোলের পরও ম্যাচে প্রত্যাশিত আধিপত্য দেখাতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মাঝমাঠে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং আক্রমণে ধার না থাকায় ম্যাচজুড়ে ভুগতে হয়েছে ব্রাজিলকে। বিপরীতে মরক্কো আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক আলিসন বেকার। যোগ করা সময়সহ শেষ কয়েক মিনিটে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচান। তার দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের শুরুতেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে মরক্কো প্রমাণ করেছে, সাম্প্রতিক সাফল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; তারা বড় দলগুলোর বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে।