
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের চরকলাকোপা এলাকায় একটি সালিসি বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট একটি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠক একপর্যায়ে উত্তেজনায় রূপ নিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি শুক্রবার রাতের দিকে উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরকলাকোপা গ্রামের চৌরাস্তা মোড়ে ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় কিছু যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিসি বৈঠকে বসেন এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে সালিসে অংশ নেওয়া কয়েকজনসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
আহতদের মধ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিপক্ষেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষে জড়িত এক পক্ষের দাবি, তারা বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠক চলাকালে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে অপর পক্ষের অভিযোগ, সালিসি প্রক্রিয়ায় একতরফা অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও মারধরের অভিযোগ তুলেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।