
সম্ভাব্য একটি শান্তিচুক্তি ও সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে তেহরানে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম।
ইরানের স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান, সম্ভাব্য সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে গরিবাবাদি জানান, ইরান, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট শর্ত বা বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনার বিষয়ে চীনও ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফরের পর চীনের পক্ষ থেকে আলোচনাপ্রক্রিয়াকে সমর্থনের বার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বেইজিং ও তেহরানের যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
অন্যদিকে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়েও বিভিন্ন মন্তব্য সামনে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামনের দিনগুলোতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে দেশটি তার অবস্থানে অটল থাকবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
তিনি সাম্প্রতিক সংঘাত ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশের জনগণের প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে ইরানের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানে অনুষ্ঠিত এ ধরনের বৈঠক আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।