
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক বনায়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। তার মতে, একটি পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ন্যাচারাল পার্কে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনায়ন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা দেশের পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বনভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় দেশ আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত “সবুজ বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এই উদ্যোগ শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও জানান, সিলেট অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা হবে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়কপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শামীম বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। বৃক্ষরোপণকে সফল করতে হলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি নাগরিক যদি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে গাছ রোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস, সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী সূর্য সেন রায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম কামারুজ্জামান মাসুম, প্রশাসকের একান্ত সচিব আমিন উদ্দিন আহমদসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান প্রভাব মোকাবিলায় শুধু নীতিগত উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে বনায়ন কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি।