
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার কৃষক পরিতোষ হালদারসহ একাধিক কৃষকের দাবি, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কম দামে বাজারের পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।
পরিতোষ হালদার জানান, তিনি ছয় বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন এবং উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে “ভেজা” বা “নিম্নমানের” অজুহাতে ধান ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অথচ একই সময়ে প্রভাবশালী মহলের সরবরাহ করা ধান সহজেই সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শুধু পরিতোষই নন, উপজেলার আরও অনেক কৃষক একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহ না করে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। এতে সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে ধান জমা দিতে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। ফলে ধান নিয়ে গুদামে গিয়ে ফিরে আসতে হয় অনেককেই।
এক কৃষক শরিফুল বেপারী জানান, তিনি ২৫ মণ ধান নিয়ে গুদামে গেলে দীর্ঘ সারির কথা বলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তার দাবি, গুদামের সামনে বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ থাকায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে।
সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাইরে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, এতে নতুন করে আসা কৃষকদের ধান জমা দিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহ করার ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে সরকারি দামে ধান বিক্রিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, ভালো মানের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের ধান গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কাউকে অন্যায়ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তার মতে, বর্তমানে বস্তার সংকট থাকায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর মোট ১ হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে কৃষি উৎপাদনে আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ধান উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।