
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া আলোচিত জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট ও সদর আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. উবাইদুল করিম আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামি মো. ফখরুল ইসলামকে মামলাটি থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করেছেন। এ সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও সরবরাহ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশের কপিতে উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. ফখরুল ইসলাম একজন বিএনপি সমর্থিত রাজনীতিবিদ এবং নোয়াখালী-৫ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী। তদন্ত চলাকালে ঘটনার তারিখ ও সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তা পাননি। এ কারণে গত ২৮ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা সাময়িক অব্যাহতিপত্র আদালত গ্রহণ করেন এবং মামলার দায় থেকে তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. সোহানুর রহমান সিফাত বাদী হয়ে ৩৭৯ জনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন। আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তা নথিভুক্ত করতে বলেন। মামলাটির নম্বর ছিল ৫৮।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আলমগীর শেখ নামে একজন জুলাই যোদ্ধা গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা মো. ফখরুল ইসলামকে ২৯৭ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ওই দলের পলাতক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলামকে হত্যা মামলায় আসামি করায় নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালী জেলা বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।