
দুবাই আবারও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই আধুনিক শহরটি টানা ষষ্ঠবারের মতো এই সম্মান ধরে রাখল। জাপানের মোরি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন প্রকাশিত গ্লোবাল পাওয়ার সিটি ইনডেক্স (জিপিসিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা সূচকে দুবাই ১০০ শতাংশ সন্তুষ্টির স্কোর অর্জন করেছে, যা বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এই সূচকে জীবনমান, পরিবেশ, অর্থনীতি, গবেষণা, সংস্কৃতি এবং যোগাযোগব্যবস্থাসহ নানা দিক বিবেচনা করে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকার, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। পরিচ্ছন্নতা এখন শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি শহরের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি জানায়, শহরজুড়ে ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। এই বিশাল কার্যক্রম পরিচালনায় ৭৮৫টি যানবাহন ও বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ২৩ হাজার ৩০০টির বেশি বর্জ্য সংগ্রহ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।
এ কাজে প্রায় ৩ হাজার কর্মী ও তদারকি কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তারা শহরের প্রধান সড়ক, আবাসিক এলাকা, বাজার, সৈকত, শিল্পাঞ্চল এবং জলপথ নিয়মিত পরিষ্কার রাখছেন। ফলে প্রতিদিনই শহরটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই নয়, দুবাইয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় পরিবেশ সংরক্ষণকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো বর্জ্য উৎপাদন কমানো, পুনর্ব্যবহার বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পাঠানো বন্ধ করা।
এই লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ আলাদা করা, স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে দুবাই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
মারওয়ান আহমেদ বিন ঘালিতা, দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির মহাপরিচালক, বলেন—এই অর্জন সরকারের সুপরিকল্পনা, নাগরিকদের সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুবাই সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে নাগরিক ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য নগর পরিবেশ গড়ে তুলেছে।
টানা ছয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের স্বীকৃতি পাওয়ায় দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক মর্যাদা আরও বেড়েছে। এটি শুধু একটি শহরের অর্জন নয়, বরং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার একটি সফল মডেল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।