
দেশে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে তিতাস গ্যাস কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে এক বার্তায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম অনুভূত হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে। এই টার্মিনাল থেকেই দেশের গ্যাস সিস্টেমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হয়। ফলে এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে তিতাসের আওতাধীন এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্প খাতের গ্রাহকরা গ্যাসের স্বল্পচাপের মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে রান্নার সময় ও শিল্পকারখানার উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য সমস্যা হলেও তা সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রাহকদের কিছুটা অসুবিধা সহ্য করতে হতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখতে প্রয়োজনীয়। যদিও স্বল্পমেয়াদে এটি কিছুটা ভোগান্তি সৃষ্টি করে, তবুও ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা এড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ্রাহকদের প্রতি অপ্রয়োজনীয় গ্যাস ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে করে সীমিত সরবরাহের মধ্যেও সবার জন্য গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, শনিবার রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকার সম্ভাবনা থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্টরা।